আজ রবিবার | ১৬ই জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি | ২রা মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | শীতকাল
বিজ্ঞপ্তি
  • সারাদেশে সংবাদদাতা ও বিঞ্জাপন প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। ই-মেইল করুন- hrd.nobojugantor@gmail.com
সাহিত্য পাতা

রাবি প্রফেসর ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দের জন্মদিন

আজ ২৮ ডিসেম্বর . মাহফুজুর রহমান আখন্দ স্যারের জন্মদিন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর . আখন্দ গবেষণা এবং সাহিত্য সমালোচনাতেও বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন। ইতিহাসের নানা বিষয়ে তাঁর ৮টি গ্রন্থ বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে পড়ানো হয়।

রোহিঙ্গা সমস্যার উপর বাংলাদেশে তিনিই সর্বপ্রথম সার্থক গবেষক। তিনি এম.ফিল এবং পিএইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন রোহিঙ্গা বিষয়কে কেন্দ্র করেই। তাঁর ‘আরাকানের মুসলমানদের ইতিহাস’ এবং ‘রোহিঙ্গা সমস্যা ও বাংলাদেশ’ গবেষণা গ্রন্থদুটি এ বিষয়ের মাস্টার পিস গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত।

Advertisements

প্রফেসর আখন্দ বাংলা সাহিত্যের একজন খ্যাতিমান শিশুসাহিত্যিক। ছড়া-কবিতা, গান, গল্প, প্রবন্ধ প্রভৃতি বিষয়ে তিনি লিখে চলেছেন নিয়মিত। শিশুদের শব্দভাষা এবং কোমল মনের অনুভূতিগুলো ভালোভাবেই বোঝেন তিনি। শিশুমনের কোমলতা এবং কৌতুহলকে ঘিরেই তিনি সাহিত্য রচনা করেন। ‘জলজ রাজার দেশে’ এবং ‘জ্বীনের বাড়ি ভূতের হাঁড়ি’ গল্পগ্রন্থদুটি শিশুসাহিত্যে মজার সংযোজন। ‘স্বপ্ন দেখি মানুষ হবার’ ‘ধনচে ফুলের নাও, ‘মামদো ভূতের ছাও, ‘জ্বীন পরী আর ভূতোং, তাঁর মজাদার শিশুতোষ ছড়াগ্রন্থ।

বড়োদের জন্যও কবিতা, ছড়া, গান, প্রবন্ধ-নিবন্ধ লিখেছেন ড. আখন্দ । ‘মনটা অবুঝ পাখি, ‘জীবন নদীর কাব্য, ‘তোমার চোখে হরিণমায়া, ‘গুমর হলো ফাঁস, ‘স্বপ্নফুলে আগুন, ‘ছড়ামাইট, ‘হৃদয় বাঁশির সুর’ প্রভৃতি গ্রন্থগুলো কবিতা, ছড়া এবং গানের জগতে তাঁর উল্লেখযোগ্য সংযোজন।

Advertisements

‘মোহনা’ এবং ‘শব্দকলা’ নামে দুটি সাহিত্য পত্রিকার সফল সম্পাদকও তিনি। ছড়া, কবিতা গল্প এবং সম্পাদনার ভেতর দিয়ে তিনি নতুন সমাজ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখেন। স্বপ্ন দেখেন পরিশুদ্ধ সাংস্কৃতিক জগৎ গড়ার। তাঁর বক্তৃতাও বেশ উপভোগ্য। ‘মোটিভেশনাল স্পিকার’ হিসেবে তিনি তরুণ প্রজন্মের কাছে দারুণ জনপ্রিয়।

গাইবান্ধা জেলায় জন্ম হলেও তিনি বগুড়াসহ সারা দেশের শহর-গ্রামের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সন্ধানে ঘুরে বেড়িয়েছেন।

স্কুল, মাদরাসা, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করার কারণে বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতাও অর্জন করেছেন তিনি। সাংস্কৃতিক মঞ্চ থেকে শুরু করে সাংবাদিকতার মাঠেও তিনি সরব। বাংলা একাডেমী, এশিয়াটিক সোসাইটি, বাংলাদেশ ইতিহাস পরিষদ, বাংলাদেশ ইতিহাস সমিতি, বাংলাদেশ ইতিহাস একাডেমি, পশ্চিমবঙ্গ ইতিহাস সংসদ, ইন্ডিয়ান হিস্ট্রি কংগ্রেস, রাজশাহী পরিচয় সংস্কৃতি সংসদ, শব্দকলাসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক সংগঠনের সাথে জড়িত তিনি।

মাহফুজুর রহমান আখন্দ লেখালেখিটাকে সামাজিক দায়বদ্ধতা মনে করেন। কেননা একজন লেখক যখন তাঁর লেখালেখিকে নিজের দায়বদ্ধতায় জড়িয়ে ফেলেন তখনি কেবল তিনি সমস্ত সমস্যাকে পিছনে ফেলে লেখার মধ্যেই আত্মতৃপ্তি খুঁজে পান। ড. আখন্দ নতুন কিছু লিখলেই নিজেকে হালকা মনে করেন। সেই দায়বদ্ধতার সূত্রেই তিনি নানা রকম সাহিত্য-সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক সংগঠনের সাথেও নিজেকে সম্পৃক্ত রাখতে পছন্দ করেন।

নিজে যেমন সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছেন তেমনি অন্যের প্রতিষ্ঠিত সংগঠনের গতি সঞ্চার করতে নিজেকে মেলে ধরেছেন সে সংগঠনের শুভাকাক্সক্ষী হিসেবে। বর্তমানে তিনি বাংলা একাডেমী ও এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ এর সদস্য; বাংলাদেশ ইতিহাস পরিষদ ও পশ্চিমবঙ্গ ইতিহাস সংসদ এর জীবন সদস্য এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় লেখক ফোরাম এর সভাপতি।

শিল্প-সাহিত্য সংস্কৃতির ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ঢাকা শব্দশীলন একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার-২০১০, বগুড়া সৃষ্টিশীল লেখকসংঘ সাহিত্য পুরস্কার-২০১১, খুলনা রঙধনু সাহিত্য পুরস্কার-২০১১, বগুড়া সংস্কৃতিকেন্দ্র অ্যাওয়ার্ড-২০১২ এবং ২০১২ সালে নজরুল সাহিত্য পদকসহ বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। পড়া-লেখা এবং মানবতার কল্যাণে তিনি সফলভাবে কাজ করে যাবেন- এ প্রত্যাশা আমাদের।

  • নব যুগান্তর /এসএম

বিষয়

*** 'নব যুগান্তর' সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আপনার ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করে এবং এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ ***

7
খেলাপি ঋণ এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে- আপনি কি মনে করেন এই অর্থ উদ্ধারে সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট?

ধন্যবাদ! আপনার মন্তব্যের জন্য।

এই বিভাগের আরো খবর পড়ুন>>>

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close