আজ রবিবার | ৭ই মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে রজব, ১৪৪২ হিজরি | ২২শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | বসন্তকাল
বিজ্ঞপ্তি
  • সারাদেশে সংবাদদাতা ও বিজ্ঞাপন প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা সিভি পাঠান- nobojugantor@gmail.com
আক্রান্ত

৫৪৯,৭২৪

সুস্থ

৫০১,৯৬৬

মৃত্যু

৮,৪৫১

  • জেলা সমূহের তথ্য
  • ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২,৭১৪
  • বরগুনা ১,০০৮
  • বগুড়া ৯,২৪০
  • চুয়াডাঙ্গা ১,৬১৯
  • ঢাকা ১৫০,৬২৯
  • দিনাজপুর ৪,২৯৫
  • ফেনী ২,১৮০
  • গাইবান্ধা ১,৪০৩
  • গাজীপুর ৬,৬৯৪
  • হবিগঞ্জ ১,৯৩৪
  • যশোর ৪,৫৪২
  • ঝালকাঠি ৮০৪
  • ঝিনাইদহ ২,২৪৫
  • জয়পুরহাট ১,২৫০
  • কুষ্টিয়া ৩,৭০৭
  • লক্ষ্মীপুর ২,২৮৩
  • মাদারিপুর ১,৫৯৯
  • মাগুরা ১,০৩২
  • মানিকগঞ্জ ১,৭১৩
  • মেহেরপুর ৭৩৯
  • মুন্সিগঞ্জ ৪,২৫১
  • নওগাঁ ১,৪৯৯
  • নারায়ণগঞ্জ ৮,২৯০
  • নরসিংদী ২,৭০১
  • নাটোর ১,১৬২
  • চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৮১১
  • নীলফামারী ১,২৮০
  • পঞ্চগড় ৭৫৩
  • রাজবাড়ী ৩,৩৫২
  • রাঙামাটি ১,০৯৮
  • রংপুর ৩,৮০৩
  • শরিয়তপুর ১,৮৫৪
  • শেরপুর ৫৪২
  • সিরাজগঞ্জ ২,৪৮৯
  • সিলেট ৮,৮৩৭
  • বান্দরবান ৮৭১
  • কুমিল্লা ৮,৮০৩
  • নেত্রকোণা ৮১৭
  • ঠাকুরগাঁও ১,৪৪২
  • বাগেরহাট ১,০৩২
  • কিশোরগঞ্জ ৩,৩৪১
  • বরিশাল ৪,৫৭১
  • চট্টগ্রাম ২৮,১১২
  • ভোলা ৯২৬
  • চাঁদপুর ২,৬০০
  • কক্সবাজার ৫,৬০৮
  • ফরিদপুর ৭,৯৮১
  • গোপালগঞ্জ ২,৯২৯
  • জামালপুর ১,৭৫৩
  • খাগড়াছড়ি ৭৭৩
  • খুলনা ৭,০২৭
  • নড়াইল ১,৫১১
  • কুড়িগ্রাম ৯৮৭
  • মৌলভীবাজার ১,৮৫৪
  • লালমনিরহাট ৯৪২
  • ময়মনসিংহ ৪,২৭৮
  • নোয়াখালী ৫,৪৫৫
  • পাবনা ১,৫৪৪
  • টাঙ্গাইল ৩,৬০১
  • পটুয়াখালী ১,৬৬০
  • পিরোজপুর ১,১৪৪
  • সাতক্ষীরা ১,১৪৭
  • সুনামগঞ্জ ২,৪৯৫
ন্যাশনাল কল সেন্টার ৩৩৩ | স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ | আইইডিসিআর ১০৬৫৫ | বিশেষজ্ঞ হেলথ লাইন ০৯৬১১৬৭৭৭৭৭ | সূত্র - আইইডিসিআর | স্পন্সর - একতা হোস্ট
ফিচার

মানবতার কল্যাণে বিজয়ের ইতিহাস স্মরণীয় হোক

আজকের এ বাংলাদেশটিকে স্বাধীনের পিছনে প্রতীকিভাবেই চলে আসে মুক্তিযোদ্ধা, শহীদের রক্তে রাঙানো শহীদ মিনার, অসাম্প্রদায়িকতা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইত্যাদি। এমন বিষয়গুলো আজকে প্রতীকিভাবেই প্রকাশ করানোর মাঝে বেঁধেছে সংঘাত। এই দেশের স্বাধীনতার পিছনে এমন কিছু বৃহৎ শক্তিগুলোর অবদানকে কেউ অস্বীকার করতে পারবে না।

আজ এই দেশের মানুষ স্বাধীনতা অর্জন বা বর্জনের দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলেই যেন তারা সিদ্ধান্তের নিরিখে দোলাচল। সেখানে তাদের প্রতিবাদটাও ‘ভঙ্গুর’। আর যথার্থ প্রতিবাদের ভাষায় উঠে আসে নিম্ন চেতনার কিছু ‘পোড়া টায়ারের গন্ধ’। তাদের আঘাত প্রত্যাঘাতের মাঝে জন্মদাগও মুছে যায়। অবাক হতে হয়, স্বাধীনতার ডাক দিয়ে যে পুরুষ বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিল, তাকে নিয়ে নেতিবাচক দৃষ্টিতে কথা বলায় বুক কাঁপেনা। তারা সংশোধনাগার থেকে আজও সঠিক ঠিকানায় পৌঁছাতে পারলোনা।

Advertisements

এই দেশে কিছু কুচক্রী মহলের নিকট থেকে নিরুপায় হয়ে অনেক দূরত্বে যেন ‘সুশীল সমাজ’। কঠিন থেকে কঠিনতর এক বাস্তবতাকে পর্যায় ক্রমিক প্রহসনে রূপান্তরিত অসাধু মানুষ। যেকোনো ধর্মের দোহাই দিয়ে শুধুমাত্র চায়- ”ক্ষমতা”। এ লোভ যেন ইতিহাস বিকৃতির এক ভয়ানক লোভ। “কলমে বঙ্গবন্ধু, ভাস্কর্যে বঙ্গবন্ধু বা চেতনার বঙ্গবন্ধু’কে তারা নিশ্চিহ্ন করতে চায়। ভাববার সময় এসেছে। নতুন প্রজন্মের কাছে এদেশের বিজয়ের ইতিহাস এবং ঐতিহ্য কতোটুকু সত্য থাকবে সন্দেহ হয়। তাদের এই ”সাম্প্রদায়িকতার বিষাক্ত প্রতিবাদের সুরটা” হরহামেশায় কোথা থেকেই মস্তিষ্কে ভব করে।

অসাম্প্রদায়িকতার বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িকতার এক তান্ডব যেন অনেকাংশেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিছুসংখ্যক ভিন্ন মনোভাব পোষণকারী এবং মতাবলম্বী মানুষদের গুরুত্ব দিয়েই যেন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ঐতিহ্য বা সংস্কৃতির আজ বিলুপ্তির পথে। মুক্তিযুদ্ধ বা মুক্তিযোদ্ধা ও জাতির পিতা “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের গর্ব এবং অহংকার”। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়েই তো আমরা আজকে পেয়েছি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। বলতেও পারি যে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ, আর তা দিনে দিনেই এসে দাঁড়িয়েছে প্রযুক্তি নির্ভর ডিজিটাল বাংলাদেশ।

Advertisements

তরুণরা এদেশের খুব সত্য ইতিহাস খোঁজে পায়না বললেই চলে,  আর অসত্য ইতিহাস জানলেও তাদেরমধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্বের রোগে ভুগবে। একটু বলতে চাই ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার যুদ্ধে পরাজিত গোষ্ঠী- ‘জামায়াত, আলবদর, রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধীরা’ ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে খুন করেছিল, আর তাদের নেতৃত্বদানকারী আরো কিছু চিহ্নিত দল ঐক্যবদ্ধ হয়েই বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং বিজয়কে নস্যাৎ করার জন্যে চেষ্টা চালিয়েছিল।

বিভিন্ন তথ্য মতে ইসলামিক সংগঠনগুলো জামায়াত-শিবিরসহ উগ্রপন্থী ইসলামিক দলই- স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব নস্যাৎ করার জন্য বিভিন্ন প্রকারের অপকর্ম, বিশৃঙ্খলতা এবং স্বাধীনতার ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি বা জাতির পিতার স্মৃতি মুছে ফেলার জন্যে অপপ্রচার চালিয়ে এই দেশের জনগণের মধ্যে আজও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেই আসছে। যা দেশের জনগণের ভিতরে একটি স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়েও ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হচ্ছে। এই দেশে স্বাধীনতা বিরোধী পাকিস্তানি দালাল’রা একের পর এক কৌশলে দেশবিরোধী নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।

তাদের ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে তিলকে তাল বানিয়ে অন্যান্য যে গুলো ধর্মালম্বী মানুষদেরকে কোন ঠাসা করছে। বাংলাদেশের জনসাধারণ আজ ধর্মীয় জাঁতা কলেই নিরুপায়। তবুও আজ এই দেশের সত্য ইতিহাসকে তরুণপ্রজন্মের কাছে সঠিক চিন্তা ভাবনার জায়গা সৃষ্টি করে দিতে হবে। তাই, এই দেশের স্বাধীনতার বিজয়ের খুব সত্য কিছু ইতিহাস ধারাবাহিক ভাবে আলোচনা না করলেও একটু সংক্ষিপ্ত ভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশের নিকট থেকে এই দেশের জনগণ স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই পাকিস্তানের দুই প্রদেশের মধ্যে বিভিন্ন প্রকার ইস্যু নিয়েই সম্পর্কের অবনতি ঘটে, সেগুলোর মধ্যে কিছু তুলে ধরা যেতে পারে যেমন ধরুন ভূমি সংস্কার, রাষ্ট্র ভাষা, অর্থনীতি এবং প্রশাসনের কার্যক্রমের মধ্যে যেন দু’প্রদেশের অনেক বৈষম্য, প্রাদেশিক স্বায়ত্ত শাসন, পূর্বপাকিস্তানের প্রতিরক্ষা ও নানাধরনের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সংঘাত সৃষ্টি হয়।

মূলত ‘ভাষা আন্দোলন’ থেকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের নানা পটভূমি তৈরি হতে থাকে। একটু জানার চেষ্টা করি যে, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকেই ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনা’ বলা যায়। এ বাঙালিরা ১৯৫৪ সালের ”নির্বাচনে জয়ী” হওয়ার পরেও তারা ক্ষমতা পেয়ে পূর্বপাকিস্তান বা পূর্ববাংলাকে শাসন করার অধিকার পায়নি। ঠিক তখন পূর্ববাংলার জনগণ মূলত “২১-দফা” প্রণয়ন করে জনগণকে সংঘ বদ্ধ করে রাজনৈতিক আন্দোলনের চিন্তা ভাবনা শুরু করে।

আর ১৯৭০ সালে সাধারণ নির্বাচনে জাতীয় পরিষদে গিয়েও আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করেছে, সেখানেই ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে’ পাকিস্তানের সেই সামরিক এবং বেসামরিক নেতৃত্ব আওয়ামী লীগের জননেতা- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রাপ্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসতে দেওয়া হয়নি কিংবা অস্বীকার করেছে। তাইতো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু তার প্রতিবাদে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল।

তিনি ১৯৭১ সালে ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বা বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিশাল জন-সমুদ্রে ঘোষণা করেছিল, ”এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,.. এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। তারই ঘোষণায় সাধারণ মানুষ স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত হয়েছিল। এরপরে ১৯৭১ এ ২৬ মার্চে আবার বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ডাক দিলে বাংলার মুক্তিকামী মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে মুক্তি যুদ্ধে অংশ নেয়। দীর্ঘ ৯ মাস রক্ত ক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৬ ডিসেম্বর চুড়ান্ত বিজয় সূচিত হয়। অর্জিত বাংলার স্বাধীনতা। ২৬ মার্চ আর ১৬ ডিসেম্বর দুটি দিবস কিংবা দিনকে বুঝতে বা বুঝাতে হয়তো বা অনেকেরই সমস্যা হয়। ‘‘স্বাধীনতা দিবস’’ ২৬ মার্চ আর ‘’বিজয় দিবস’’ ১৬ ডিসেম্বর এ দুটি দিবসকে গুলিয়ে ফেলি।

স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসটাকে নিয়ে বহুজনেরই উল্টাপা্‌টা হয়। পেপার পত্রিকাতেও  এ ভুল অনেকের চোখে পড়ে। দু’জায়গার কথাগুলোকে গুলিয়ে ফেলেই একাকার করে দেয়। পরিস্কার ধারণার আলোকেই বলতে হয়,- বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসটা হচ্ছে ২৬ মার্চ তারিখে পালিত হওয়া এক জাতীয় দিবস, এইটিকেই ১৯৭১ সালের ‘২৫ মার্চ’ রাতে তৎকালীন- পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ আনুষ্ঠানিকভাবেই যেন স্বাধীনতার সংগ্রাম শুরু করে। আর সেই মুহূর্তের রাতের পর দিনটি আসে ২৬ মার্চ, আর সে দিনটাকে বাংলাদেশের জনগণ স্বাধীনতা দিবস বলছেন।

আরো পরিষ্কার ভাবেই বলতে চাই,- ২৬ মার্চের রাত বারোটা থেকেই এ দেশের জনগণ স্বাধীনতা দিবস পালন করে আসছে। কারণটা হলো যে, ১২টার পর মুহূর্তে পূর্ব পাকিস্তান কিংবা এ বাংলাদেশের জমিনে যতধরণের পাকিস্তানী সেনারা ছিলো তারা যেন হয়েই গেলো ‘বিদেশী হানাদার শত্রু বাহিনী’ এবং তাদের নিজস্ব এই জন্মভূমির মাটি থেকে তাড়াতে যে যুদ্ধ শুরু হলো- সেটাই হচ্ছে ‘মুক্তিযুদ্ধ’, স্বাধীনতার যুদ্ধ একথাটা- “একটু ভুল”।

আর ‘২৬ মার্চ’- থেকেই যদি আমরা শুরুর প্রক্রিয়াতে স্বাধীন না হই তাহলে, মুক্তিযুদ্ধটা কিন্তু আর- ‘মুক্তিযুদ্ধ’ থাকে না, পাকিস্তানের সঙ্গে গৃহযুদ্ধ হয়ে যায়। সুতরাং, এমন বিদেশী দখলদার বাহিনীদের সহিত দীর্ঘ- ”নয় মাস” আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে এদেশে ‘বিজয়’ আনে, তাই তো আমরা পেয়েছি ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস।

এ পৃথিবীতে মাত্র দুইটি দেশ- “স্বাধীনতার ডাক বা কথা” ঘোষণা দিয়েই দেশ স্বাধীন করেছে। এ ‘বাংলাদেশ আর আমেরিকা’। সেই হিসাবে ২৬ মার্চ থেকেই এ বাংলাদেশ স্বাধীন, তা অবশ্যই সাংবিধানিক ভাবেই প্রতিষ্ঠিত, এটা নিয়ে আদৌ তর্কের কোন অবকাশ নেই। বলা প্রয়োজন যে, পাকিস্তানের শাসকরাই চেয়ে ছিল ক্ষমতা সব সময় পশ্চিম পাকিস্তানীদের কাছে থাকুক।

সুতরাং তারা যেন দিনে দিনে পূর্ব পাকিস্তান কিংবা বাংলাদেশের মানুষকে যাঁতা কলে বন্দি রাখার বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে।পূর্ব পাকিস্তানের ‘পাট’, ‘চামড়া’ বা ‘চা’ রপ্তানি করেই যে বিদেশি মুদ্রা আয় হতো- তা পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়ন কাজে চতুরতার সঙ্গে তারা ব্যয় করতো। পূর্ব পাকিস্তান এর চাষ করা ফসলের বাজার দাম পশ্চিম পাকিস্তানেই অনেক কম আর পূর্ব পাকিস্তানে অনেক বেশি।

এই সব অসংখ্য তথ্য রয়েছে। যা পূর্ব পাকিস্তান এবং আজকের বাংলাদেশের সকল জনতা মেনে নিতে পারেন নি। আর ভেতরে ভেতরে যেন একধরনের ক্রোধ সৃৃষ্টি হয়েছিল এ দেশের জনগণের। সারা পূর্ব পাকিস্তান বা আজকের এ দেশ তখন মিছিলের নগরী হয়েছিল।

১মার্চ পাকিস্তানের সেই প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান সাহেব জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করার পরে বিভিন্ন কাজে পূর্ব এবং পশ্চিম পাকিস্তান মুখোমুখি অবস্থানেই দাঁড়িয়ে যায়। পশ্চিমা শাসক গোষ্ঠির মুখোশ উম্মোচিত হয়। পূর্ববাংলার জনসাধারণ বুঝতে পারে এইবার তারা আলাদা জন্ম ভূমি গড়তে পারবে। এ দেশের পরিস্হিতি যদিও আয়ত্তের বাইরে চলে যায়, তবুও ৩ মার্চে ঢাকাতে ‘কারফিউ জারি’ করে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়েছিল।

এই খবর বাংলার জনতা জানার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকার বাইরের যারা তাদেরও যেন দেশের জন্য উত্তেজনা বাড়তে শুরু করেছিল। আর সেই সময়ে মিছিল মিটিংয়ের নতুন গতি পেয়েছিল। আবার ২মার্চে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এদেশের পতাকা ওড়িয়েছিল ডাকসুর ভিপি, আ স ম আব্দুর রব আর ৪মার্চে ঢাকায় স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেছিল ছাত্রলীগ নেতা, শাহজাহান সিরাজ। তার ভিত্তিতেই বলা যায় এই দেশে কারফিউ হয়েছিল। আসলেই মার্চ থেকে ঘটে যাওয়া অনেক ঘটনার দৃষ্টান্তমূলকভাবে আলোচনা করার ইচ্ছা থাকলেও অল্প পরিসরেই তা সম্ভব হচ্ছেনা। তবুও বলি এদেশটা পাওয়ার উদ্দ্যেশে আওয়ামীলীগের ডাকেই সকাল ছয়টা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত জোরদার ভাবে হরতাল পালিত হয়েছিল।

জাতির জনক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নির্দেশনায়- দুপুর আড়াইটা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত অতি জরুরি কাজ করার জন্যে সরকারি বেসরকারি অফিস কিংবা ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছিল। তাছাড়াও তিনি জরুরি সার্ভিস, হাসপাতাল, ঔষধের নানান দোকান অ্যাম্বুলেন্স সহ সংবাদপত্র এবং সংবাদপত্রের গাড়ি, পানি, বিদ্যুৎ, টেলিফোন এইগুলো সেই হরতালের বাহিরে রেখেছিল। এক কথায় বলতে গেলে, জাতির জনক “বঙ্গবন্ধু” যা যা বলেছিল তাই ঘটেছিল। তার নির্দেশে পূর্ববাংলার সকল জনতা একীভূত হয়ে এই দেশটি স্বাধীন করেছে।

আরো জানা দরকার, ৬ মার্চ পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ‘ইয়াহিয়া খান’ রেড়িওতে জাতির উদ্দেশ্যে যে ভাষণ দেয়। এতেই ”২৫ মার্চ” জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে বসার ঘোষণা ছিল। আর তার সঙ্গে বিশৃঙ্খলা যেন না হয়, এক প্রকার হুমকি বা ধমক দিয়েছিল। তখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব তা একেবারেই যেন সহ্য করতে পারেননি, তিনিও ৭ মার্চের ভাষণেই তার অনেক জবাব দিয়ে ছিল। আবার ১৫ মার্চ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান আমাদের পূর্ব পাকিস্তান আসে এবং ১৬মার্চ মুজিব-ইয়াহিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। সে বৈঠকে কোনো কাজ না আসলে বঙ্গবন্ধু- ”শেখ মুজিবুর রহমান” বাংলা ছাড়ার ডাক দেন। ক্ষুব্ধ ‘ইয়াহিয়া’ রাগেই যেন ফোঁস ফোঁস করে।

এ ধরনের আরো অনেক বৈঠক হয়েছিল। কিন্তু কোনো প্রকার কাজ হয়নি। অনেকাংশে তাদের কাল ক্ষেপণের মধ্য দিয়ে যেন পশ্চিম পাকিস্তান থেকেই- গোলা বারুদ, সৈন্য-সামন্ত বাংলার জমিনে খুব দ্রুত গতিতে আসতে থাকে। তখনই পূর্ববাংলার মানুষরা যুক্তিতর্কের উর্ধ্বে উঠেই যেন স্বাধীনতা অর্জনের নেশায় উম্মত্ত হয়ে যায় এবং যার যাছিল গাইতি, বল্লম, রামদা, বর্শা, লাঠি এই গুলো নিয়েই রাস্তায় নেমে পড়ে। সুতরাং তারাই তো আমাদের ‘মুক্তিযোদ্ধা’, তাঁরা এই বাংলাদেশ স্বাধীন করেছে।

বাংলাদেশের “স্বাধীনতা সংগ্রাম” ছিল দুর্নীতির বিরুদ্ধে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং শোষণের বিরুদ্ধে। ১৮ মার্চ এক অসহযোগ আন্দোলনে ১৬ দিনেই তারা “পদার্পণ করে”। এ আন্দোলনের ঢেউ গ্রাম হতে গ্রামান্তরে ছড়িয়ে পড়ে। সংকটাপন্ন অবস্থায় এইদেশ, যুদ্ধ চলছে, চলছে লাশের মিছিল। ২০ মার্চ জয়দেবপুরের রাজবাড়ীতেই অবস্থিত ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একটি দক্ষ ‘ব্যাটালিয়ন’ তাদের হাতিয়ার ছিনিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্রকে ‘নস্যাৎ’ করে দেয়। তারপরে শহর হতে গ্রামাঞ্চলের অসংখ্য মানুষ একত্রিত হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তারা সবাই মিলে টঙ্গী এবং জয়দেবপুরের মোড়ে একটা ব্যারিকেড গড়ে তোলে নব-নির্বাচিত জাতীয় পরিষদের সদস্য, মোঃ শামসুল হকের নেতৃত্বে।

২২ মার্চে শহর হতে গ্রাম পর্যন্ত স্বাধীনতার জন্য বাঙালী সংগ্রামে গর্জে ওঠে। এমন ভাবে যতই দিন রাত অতিবাহিত হচ্ছিল, ‘’রাজনৈতিক সঙ্কট’’ ততই গভীরতর হয়ে যাচ্ছিল। এরপরে আরও আসে, ইতিহাসের একটি ভয়ালতম কালোরাত্রি। সে কালো রাতটা যেন বাঙালির ইতিহাসে সবচেয়ে আতংকের রাত। পশ্চিমপাকিস্তানের সামরিক সরকার থেকে গণ হত্যার নির্দেশ আসে। তখন ব্যাপক পরিমাণেই পশ্চিম পাকিস্তানি সৈন্যদের সমাগম ঘটে। অপারেশন সার্চ লাইটের নামে নির্বিচারে গণহত্যা শুরু হয় এমন রাতে।

২৫ মার্চ কালো রাত ও অপারেশন সার্চলাইট অপারেশনে নেমেছিল সেই কুচক্রী পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মাধ্যমে যেন নির্বিচার হত্যার সাথে সাথেই জ্বালাও পোড়াও স্বাধীনতাকামী বাঙালীর কণ্ঠস্বরটাকে বুলেট দিয়ে চিরতরে স্তব্ধ করার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। এ অপারেশনের মূল লক্ষ্য ছিলো ইপিআর (“ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস”, বর্তমানে বিজিবি) ও এই দেশের পুলিশ সহ বাঙালী সেনা সদস্যদের নিরস্ত্র করা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ আওয়ামীলীগ এর নেতা এবং গুরুত্ব পূর্ণ ১৬ জন ব্যক্তির বাসায় হানা দিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে।

জ্বলছে ঢাকা আর মরছেও বাঙালী’রা। একই সাথে শুরু হয়ে গেছে মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার প্রথম প্রহর। এ ভাবেই ‘’মুক্তিযুদ্ধ’’ চলতে চলতে যখন হানাদার পাকবাহিনী বুঝে গেল পরাজয় তাদের অনিবার্য তখনই তারা এ পূর্ব বাংলাকে মেধা-শূন্য, পঙ্গু, কিংবা নেতৃত্বহীন করার জন্যই ১৪ ডিসেম্বর রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস বাহিনীর সহযোগিতায় অন্ধকার রাতে হত্যা করে বহু সংখ্যক অধ্যাপক, প্রকৌশলী, ডাক্তার, আইনজীবী, শিল্পী বা কবি-সাহিত্যিকদের।

তথ্যের আলোকেই প্রথম সারির দু শতাধিক বাঙালি বুদ্ধিজীবীকে হত্যার মাধ্যমে ইতিহাসের একটি কলঙ্কময় অধ্যায়ের সূচনা করে ছিল।এই দেশে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়েই প্রায় দুই লাখ মা বোনদের ইজ্জতের বিনিময়ে এই ‘স্বাধীনতা’৷ আবার বহু জন তাঁদের মূল্যবান ধনসম্পদকেও হারিয়ে ছিল। ‘অগ্নি সংযোগ’, ‘নারী ধর্ষণ’, ‘গণহত্যা’, ‘সংঘর্ষ’ কিংবা ‘হামলা’, আর লুটতরাজের মতো অনেক অপ্রীতিরক ঘটনা-ঘটে যাওয়ার পরও বাঙালির চেতনায় যেন স্বাধীনতা ছিল।

ইশতেহারে বলাই ছিল, আজ থেকেই “স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ” এমন ঘোষণার কথাটা পূর্ণবাংলার মানুষের প্রাণশক্তি, আর তাইতো ৫৪ হাজার বর্গমাইলের ৭কোটি মানুষের আবাস ভূমির নাম হবে বাংলাদেশ, এতে‌ আজ বাঙালি গর্বিত। মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধের পর যুদ্ধ সুকৌশলে চালিয়েই পাক-বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়েই ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় করেছে।

সুতরাং, অভ্যুদয় ঘটেছে স্বাধীন বাংলাদেশের। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু হয়েছিল বাঙালি জাতির মুল কর্ণধার। সারাবিশ্বের দরবারে বা মানচিত্রে সংযোজিত হয়েছে ‘নতুন ও স্বাধীন’ এদেশ, ”গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ”। এই বাংলার জনপ্রিয় নেতা,- ”বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান” জেল থেকে বাহির হয়েই স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল আর তিনিই এ দেশের স্থপতি, তাকে স্মরণীয় ও বরণীয় করে রাখার জন্যেই প্রতিকী ভাস্কর্য নির্মাণ করা জাতির কাছে হবে অনেক গর্বের বিষয়।

তাছাড়াও তরুণ প্রজন্ম আগামীতে মহান ব্যক্তিকে স্মরণ করায় হয়তো বাধাগ্রস্ত হবে। ভুলে গেলে কি চলবে, তিনিই ছিলেন সকল জাতি‌ পেশার একজন‌ অসাম্প্রদায়িক নেতা। সুতরাং যুগেযুগে এমন কালজয়ী সর্বশ্রেষ্ঠ মহানায়কের হাত ধরে অর্জিত হওয়া “লাল সবুজের জাতীয় পতাকা” এবং তাঁর ভাস্কর্য অক্ষন্ন রাখা আমার, আপনার অসাম্প্রদায়িক চেতনাতে লালন করা উচিত।

লেখক- নজরুল ইসলাম তোফা টিভি ও মঞ্চ অভিনেতা, চিত্রশিল্পী, সাংবাদিক, কলামিস্ট ও প্রভাষক।

বিষয়

*** 'নব যুগান্তর' সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আপনার ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করে এবং এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ ***

এই বিভাগের আরো খবর পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close