আজ মঙ্গলবার | ৭ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি | ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | হেমন্তকাল
বিজ্ঞপ্তি
  • সারাদেশে সংবাদদাতা ও বিঞ্জাপন প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। ই-মেইল করুন- hrd.nobojugantor@gmail.com
আক্রান্ত

সুস্থ

মৃত্যু

  • জেলা সমূহের তথ্য
ন্যাশনাল কল সেন্টার ৩৩৩ | স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ | আইইডিসিআর ১০৬৫৫ | বিশেষজ্ঞ হেলথ লাইন ০৯৬১১৬৭৭৭৭৭ | সূত্র - আইইডিসিআর | স্পন্সর - একতা হোস্ট
বিশেষ প্রতিবেদন

কুড়িগ্রাম বিআরটিএ অফিস দালালদের স্বর্গরাজ্য : অতিষ্ঠ ভুক্তভোগীরা

“হয়রানী আর প্রতারণার ফাঁদ পেতে বসে আছে একটি শক্তিশালী দালাল চক্র”

কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট সার্কেল বিআরটিএ অফিসে মোটরযান পরিদর্শক ছাড়াও পাঁচজন রাজস্ব স্টাফ থাকলেও বিআরটিএ অফিস এখন চলছে মূলত মোটরযান পরিদর্শক মোঃ মাহবুবার রহমানকে দিয়ে। মোটরযান পরিদর্শকের বাড়ী নিজ জেলায় হওয়ায় কাউকে কোন প্রকার তোয়াক্কা না করে, তার ছত্রছায়ায় রেখেছেন ১০ জনের অধিক একটি দালাল চক্র।

এই দালালচক্রের প্রধান হিসেবে কাজ করছেন আশরাফ আলী। তিনি নিজস্ব প্রাইভেট কারে চড়ে অফিসে আসেন এবং সরকারি চেয়ার টেবিল ব্যবহার করে মোটর সাইকেল ড্রাইভিং লাইসেন্সের লানার্র, গাড়ীর ফিটনেস, পারমিট, হেভি ড্রাইভিং লাইসেন্স, নতুন মোটর সাইকেলের লাইসেন্সসহ বিভিন্ন কাজ করে প্রকাশ্যে টাকা পয়সা লেনদেন করেন।

Advertisements

আশরাফ আলীর সাথে কথা বলে কারো অনুমান করার সাধ্য নেই যে, তিনি ঐ অফিসের কোন স্টাফ নন। আসলে তিনি একজন প্রকৃত দালাল। আশরাফ আলীর মতো আরো রয়েছেন লম্বু কাজল, মহুবর, সুলতান, বাবলু, সাদেকুর, সবুজ, সুমন, রাজু (ইন্স্যুরেন্স) প্রমুখ। 

মোটরযান পরিদর্শকের নেতৃত্বে এই দালালচক্র প্রতি মাসে বিভিন্নভাবে প্রায় বিশ থেকে ত্রিশ লক্ষ টাকার অবৈধ বাণিজ্য করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

Advertisements

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি সপ্তাহে এক বা দুইবার কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটে ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা হয়ে থাকে। হাজার হাজার লার্নার পরীক্ষার্থী থাকলেও, শুধুমাত্র তারাই পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে পারেন বা রোল নম্বর পান, যারা টাকা পয়সা লেনদেন করেন। টাকা পয়সা লেনদেন হলে অনেকে পরীক্ষার হলে না গিয়েও ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষায় পাস করে থাকেন। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআরটিএ অফিসের অনেকেই জানান, নতুন মোটর সাইকেলের রেজিস্ট্রেশন করতে গেলে অতিরিক্ত দুই হাজার টাকা দিতে হয় মোটরযান পরিদর্শককে। মাইক্রোবাস, মিনিবাস, নাইট কোচ, গাড়ীর ফিটনেস পরিদর্শন না করেই পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে ফিটনেস সার্টিফিকেট পাওয়া যায়।

তারা বলেন, দালাল আশরাফকে সাড়ে আট হাজার টাকা দিলে সবোর্চ্চ চার মাসের মধ্যে অরিজিনাল ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া যায়। আর যদি কেউ নিজেই ঘুষ ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে চান তাহলে তিন বছরেও লাইসেন্স পাবেন না বলে আশরাফ আলী জানান।

এদিকে কুড়িগ্রাম বিআরটিএ অফিস দালাল চক্র বেস্টিত হওয়ায় কুড়িগ্রামের যানবাহনের মালিকেরা নানা ভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। 

মোঃ রফিকুল ইসলাম নামক একজন ভুক্তভোগী জানান, ২০১৮ইং সালের ১৮ই জুন তার মোটর সাইকেল ড্রাইভিং  লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে তিনি ১৪/০৬/২০১৮ইং তারিখে ড্রাইভিং লাইসেন্স এর মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য সরকারি কোষাগারে ২৪২৯/- টাকা জমা করেন ও অতিরিক্ত ফি প্রদান করে অফিসে ছবি তোলেন। তার ড্রাইভিং লাইসেন্স ৩০/১২/২০২০ইং তারিখে দেয়ার কথা থাকলেও অদ্যবধি লাইসেন্স পাননি।

আর এক ভুক্তভোগী শ্রী ভক্ত কুমার জানান, তিনি তিনবছর আগে একটি টিভিএস মোটর সাইকেল ক্রয় করেছেন এবং এই মোটর সাইকেলটির লাইসেন্স করার জন্য অফিসে গেলে তার কাছে তিনবছরের জরিমানা বাবদ তিনহাজার টাকা অতিরিক্ত দাবী করায় তিনি লাইসেন্সটি করতে পাচ্ছেন না। 

মোটরযান অধ্যাদেশে বিভিন্ন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা কালে বিআরটিএর মোটরযান পরিদর্শক উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও, তিনি উপস্থিত না হয়ে তার নির্দেশক্রমে উপস্থিত রাখেন দালাল আশরাফ আলীকে বলে অভিযোগে জানা গেছে। সব মিলে কুড়িগ্রামের বিআরটিএর দালাল চক্রের দাপটে কুড়িগ্রামের বিভিন্ন যানবাহনের মালিকগণ ও সেবা গ্রহিতারা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। 

অতিরিক্ত টাকা নেয়ার বিষয়ে মোবাইলে কথা হলে মোটরযান পরিদর্শক মাহবুবার রহমান জানান ,অতিরিক্ত টাকা আমরা নেই না। তিনি দালাল চক্রের বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার না করে বলেন তারা আমাদের রাজস্বের কোন স্টাফ নন। আশরাফ নামে কাউকে চেনেন না এবং তার অফিসে সরকারি স্টাফ ছাড়া আর কোন দালাল নেই। এ বলেই তিনি ফোন কেটে দেন।

কিন্তু এর এক মিনিট পরেই দালালের মূল হোতা আশরাফ আলী তার নিজস্ব মোবাইল নম্বর ০১৯১৮১১১৮৯৯৯ থেকে ফোন করে দেখা করার আকুতি জানান।

সব মিলে বিআরটিএ অফিসের দালাল চক্রের দাপটে কুড়িগ্রামের বিভিন্ন যানবাহনের মালিকগণ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। যত দ্রুত সম্ভব কুড়িগ্রাম বিআরটিএ অফিস দুর্নীতি এবং দালালমুক্ত করা যায় এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে কুড়িগ্রামবাসী।

নব যুগান্তর /এসএম

বিষয়

*** 'নব যুগান্তর' সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আপনার ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করে এবং এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ ***

6
খেলাপি ঋণ এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে- আপনি কি মনে করেন এই অর্থ উদ্ধারে সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট?

ধন্যবাদ! আপনার মন্তব্যের জন্য।

এই বিভাগের আরো খবর পড়ুন>>>

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close