আজ বৃহস্পতিবার | ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই রজব, ১৪৪২ হিজরি | ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | বসন্তকাল
বিজ্ঞপ্তি
  • সারাদেশে সংবাদদাতা ও বিজ্ঞাপন প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা সিভি পাঠান- nobojugantor@gmail.com
আক্রান্ত

৫৪৪,৫৪৪

সুস্থ

৪৯৩,৭৯৮

মৃত্যু

৮,৩৭৯

  • জেলা সমূহের তথ্য
  • ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২,৭১৪
  • বরগুনা ১,০০৮
  • বগুড়া ৯,২৪০
  • চুয়াডাঙ্গা ১,৬১৯
  • ঢাকা ১৫০,৬২৯
  • দিনাজপুর ৪,২৯৫
  • ফেনী ২,১৮০
  • গাইবান্ধা ১,৪০৩
  • গাজীপুর ৬,৬৯৪
  • হবিগঞ্জ ১,৯৩৪
  • যশোর ৪,৫৪২
  • ঝালকাঠি ৮০৪
  • ঝিনাইদহ ২,২৪৫
  • জয়পুরহাট ১,২৫০
  • কুষ্টিয়া ৩,৭০৭
  • লক্ষ্মীপুর ২,২৮৩
  • মাদারিপুর ১,৫৯৯
  • মাগুরা ১,০৩২
  • মানিকগঞ্জ ১,৭১৩
  • মেহেরপুর ৭৩৯
  • মুন্সিগঞ্জ ৪,২৫১
  • নওগাঁ ১,৪৯৯
  • নারায়ণগঞ্জ ৮,২৯০
  • নরসিংদী ২,৭০১
  • নাটোর ১,১৬২
  • চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৮১১
  • নীলফামারী ১,২৮০
  • পঞ্চগড় ৭৫৩
  • রাজবাড়ী ৩,৩৫২
  • রাঙামাটি ১,০৯৮
  • রংপুর ৩,৮০৩
  • শরিয়তপুর ১,৮৫৪
  • শেরপুর ৫৪২
  • সিরাজগঞ্জ ২,৪৮৯
  • সিলেট ৮,৮৩৭
  • বান্দরবান ৮৭১
  • কুমিল্লা ৮,৮০৩
  • নেত্রকোণা ৮১৭
  • ঠাকুরগাঁও ১,৪৪২
  • বাগেরহাট ১,০৩২
  • কিশোরগঞ্জ ৩,৩৪১
  • বরিশাল ৪,৫৭১
  • চট্টগ্রাম ২৮,১১২
  • ভোলা ৯২৬
  • চাঁদপুর ২,৬০০
  • কক্সবাজার ৫,৬০৮
  • ফরিদপুর ৭,৯৮১
  • গোপালগঞ্জ ২,৯২৯
  • জামালপুর ১,৭৫৩
  • খাগড়াছড়ি ৭৭৩
  • খুলনা ৭,০২৭
  • নড়াইল ১,৫১১
  • কুড়িগ্রাম ৯৮৭
  • মৌলভীবাজার ১,৮৫৪
  • লালমনিরহাট ৯৪২
  • ময়মনসিংহ ৪,২৭৮
  • নোয়াখালী ৫,৪৫৫
  • পাবনা ১,৫৪৪
  • টাঙ্গাইল ৩,৬০১
  • পটুয়াখালী ১,৬৬০
  • পিরোজপুর ১,১৪৪
  • সাতক্ষীরা ১,১৪৭
  • সুনামগঞ্জ ২,৪৯৫
ন্যাশনাল কল সেন্টার ৩৩৩ | স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ | আইইডিসিআর ১০৬৫৫ | বিশেষজ্ঞ হেলথ লাইন ০৯৬১১৬৭৭৭৭৭ | সূত্র - আইইডিসিআর | স্পন্সর - একতা হোস্ট
বিশেষ প্রতিবেদন

কুড়িগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ১০টাকা কেজির চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

মঙ্গা খ্যাত দেশের উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর ১০টাকা কেজি দরে চাল বা স্বল্পমুল্যে খাদ্যশস্য বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এরপর থেকে নিম্ন আয়ের মানুষ জনের ভাগ্য পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখলেও সেই স্বপ্ন পূরণে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে খোদ জেলা খাদ্য বিভাগ।

জেলা খাদ্য বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারির সহযোগিতায় প্রতিবছর আমন-বোরো মৌসুমে নিম্নমানের চাল ডিলারের মাধ্যমে সংগ্রহ করে গোডাউনজাত করে। আর এসব নিম্নমানের চাল দরিদ্র মানুষের নিকট বিতরণ করার অভিযোগ উঠেছে জেলা খাদ্য অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে। নষ্ট, লাল এবং দুর্গন্ধযুক্ত এসব চাল নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়েছে সুবিধাভোগিদের। নিজেরা খেতে না পেরে বিক্রি করে দিচ্ছেন অনেকে আবার গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছেন। 

Advertisements

খাদ্য অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি আওতায় তালিকাভুক্ত কার্ডধারী সুবিধাভোগীদের খাবার অনুপযোগি ধুলোয় ভরা লাল এবং দুর্গন্ধযুক্ত চাল বিতরণ করার অভিযোগ উঠেছে জেলা খাদ্য অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের পশ্চিম দেবত্তর গ্রামের বাসিন্দা দিনমজুর আইয়ুব আলী। তিনি ২০১৬ সালেই খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি আওতায় স্বল্পমুল্যে খাদ্যশস্য কার্ড পেয়েছেন। নিয়মিতভাবেই স্বল্পমুল্যে চাল উত্তোলন করে আসছেন। কিন্তু এবারের তিনি স্বল্পমুল্যেও চাল পেয়েও খুশি নন। কেননা সরিষাবাড়ি গ্রামে নুর ইসলাম নিকট থেকে তিনি ১০টাকা দরে ৩শ টাকায় ৩০কেজি চাল নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। নষ্ট, লাল এবং দুর্গন্ধযুক্তময় এসব খাবার অনুপযোগি চাল এখন বিষ ফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজেরা খেতে না পেরে তার বাড়িতে গৃহ পালিত পশু গরু, ছাগল এবং হাঁস-মুরগিকে খাওয়াচ্ছেন। 

Advertisements

আইয়ুব আলী জানান, সম্ভবত এসব চাল দীর্ঘদিন ধরে গোডাউন বন্ধ অযত্নে থাকায় খাবার অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। এসব পচাঁ দুর্গন্ধযুক্ত লাল চাল খাওয়া যাচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে গরু-ছাগলের খাবার হিসেবে ব্যবহার করছি। ডিলারের কাছে ফেরত নিয়ে গেলে তারা উল্টো তাড়িয়ে দেন।

একই এলাকার দিনমজুর কার্ডধারি ইনতার আলী ও আজগর আলী অভিযোগ করে বলেন, ১০ কেজির রেশন কার্ড পাইছি। কিন্তু এবার দু’বারই এই চাল পাইছি। সেই চাল খেতে না পেরে ১ম বার ২৫টাকা এবং ২য় বারের চাল ৩৫ টাকা দরে কেজিতে বাইরে বিক্রি করে ভালো চাল কিনে খাচ্ছেন। কিছু চাল মানুষের কাছে বিক্রি করেছি। তারা এগুলো চাল নিয়ে গো খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছেন। 

উলিপুর উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নের জুম্মারহাট গ্রামে বাসিন্দা লাল মিয়া, হাজেরা বেগম, জোবেদা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ১০টাকার কেজি চালের রেশন কার্ড পেয়ে আমরা খুশি হয়েছিলাম। সরকার ভালোই করেছে আমাদের মতো দরিদ্র মানুষের উপকার করছে। কিন্তু উপজেলা খাদ্য গুদাম ডিলারের মাধ্যমে যে পঁচা মোটা লাল চাল দিয়েছে সেগুলো খাওয়া যায় না।

তারা বলেন, ত্রিশ কেজির বস্তার পরিবর্তে আমাদেরকে নিজেদের বস্তা নিয়ে গিয়ে চাল ঢেলে নিয়ে আসতে হচ্ছে। বস্তা না নিয়ে গেলে আরো বিশ টাকা ডিলারকে দিতে হচ্ছে। এমন অভিযোগ সুবিধাভোগিদের। তালিকাভুক্ত সুবিধাভোগিদের জন প্রতি তিনশ টাকায় ৩০কেজি চালের বস্তা দেবার কথা থাকলেও অনেক ডিলার ৫০কেজি চালের বস্তা খুলে সুবিধাভোগিদের আনা বস্তায় করে চাল দিচ্ছেন। রান্নার অনুপযোগি এসব চাল পেয়ে সুবিধাভোগিরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

গুনাইগাছ ইউনিয়ন পরিষদের সামনে বিতরণকারী ডিলার তাহের বলেন, উলিপুর খাদ্য গুদাম থেকে আমাকে দু’ধরনের চালের বস্তা দেয়া হয়েছে। তারা বলেছে ভালোটার সাথে খারাপ চাল চালিয়ে দিতে। এখন আমার তো এখানে দোষ নেই। আমি বাধ্য হয়েই এই চাল বিতরণ করছি। 

একই ইউনিয়নের নাগড়াকুড়া বাজারের ডিলার আব্দুর রউফ রিজু বস্তার জন্য বাড়তি ২০টাকা নেবার কথা অস্বীকার করে বলেন, আমাকে নষ্ট চাল দেয়া হয়েছিল কিন্তু আমি ঝগড়া করে মোটামুটি ভালো মানের চাল নিয়ে এসে বিতরণ করছি। 

রাজারহাট উপজেলার চায়না বাজারের ডিলারের সহযোগি মিজানুর রহমান রকেট বলেন, উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকে সব ডিলারের কাছে এমন পঁচা ও লাল চাল দেয়া হয়েছে। কার্ডধারীরা ফেরত দিতে আসছে। কিন্তু আমরা নিরুপায়। চাল পরিবর্তন করে দিচ্ছে খাদ্য গুদাম থেকে।  

গুনাইগাছ ইউপি চেয়ারম্যান আকবর আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষের এসব চাল ডিলারদের দিয়েছে। এসব খাবার অনুপযোগি চাল পেয়ে মানুষ বিপাকে পড়েছেন বলে জানান তিনি।  

কুড়িগ্রাম পাবলিক প্রসিকিউটর এসএম আব্রাহাম লিংকন জানান, কিছু কর্মকর্তা কর্মচারী দায় কোন ভাবে সরকারের উপর বর্তায় না। প্রধানমন্ত্রীর দেয়া স্বল্পমূল্যের চাল ইতিবাচক ভূমিকা পেয়েছে। রাষ্ট্র ভর্তুকি দিয়ে এসব চাল হতদরিদ্রদের জন্য দিচ্ছে। সেখানে এমন অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে নিশ্চয়ই কর্তৃপক্ষ আমলে নেবেন বলে আশাবাদি। 

রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূূরে তাসনিম নিম্নমানের চাল বিতরণের ঘটনার সত্য স্বীকার করেন। মাঠ পর্যায় নিম্নমানের চাল বিতরণ দেখে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে জানিয়ে ভাল চালের ব্যবস্থা করেন। এই বিষয়ে তিনি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবার কথা জানান।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার ৯টি উপজেলায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় এক লাখ ৪১হাজার ৮৬৫ জন কার্ডধারিকে ২৬৮জন ডিলারের মাধ্যমে এই চাল দেয়া হয়।

এরমধ্যে সদর-৪৪ জন ডিলারের অধিন ১৯হাজার ৯৩৯জন, ফুলবাড়িতে-১৯জন ডিলারের অধিনে ১০হাজার ৪৩৫জন, নাগেশ্বরী-৫৭জন ডিলারের অধিন ২৭হাজার ৪২১জন, ভূরুঙ্গামারীতে-২৩জন ডিলারের অধিনে ১৫হাজার ৮৩৪জন, রাজারহাট-২৩জন ডিলারের অধিনে ১১হাজার ৮২৭জন, উলিপুর-৪৮জন ডিলারের অধিনে ২৭হাজার ২৪৫জ। 

চিলমারী-১৭জন ডিলারের অধিনে ০৯ হাজার ১১০জন, রৌমারী-২৭জন ডিলারের অধিনে ১৪হাজার ৫৯৪জন এবং রাজিবপুর-১০জন ডিলারের অধিনে ০৫ হাজার ৪৬০জন সুবিধাভোগি রয়েছেন। ২০১৬ সাল থেকে বছরে ৫মাস এই চাল দেয়া হলেও চলতি বছর হতে মার্চ, এপ্রিল,মে,সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর এবং ডিসেম্বর এই ৭মাস পর্যন্ত স্বল্প মূল্যের এই চাল বিতরণ করা হবে।

নব যুগান্তর /এসএম /এনএস 

বিষয়

*** 'নব যুগান্তর' সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আপনার ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করে এবং এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ ***

এই বিভাগের আরো খবর পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close