আজ মঙ্গলবার | ৭ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি | ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | হেমন্তকাল
বিজ্ঞপ্তি
  • সারাদেশে সংবাদদাতা ও বিঞ্জাপন প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। ই-মেইল করুন- hrd.nobojugantor@gmail.com
আক্রান্ত

সুস্থ

মৃত্যু

  • জেলা সমূহের তথ্য
ন্যাশনাল কল সেন্টার ৩৩৩ | স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ | আইইডিসিআর ১০৬৫৫ | বিশেষজ্ঞ হেলথ লাইন ০৯৬১১৬৭৭৭৭৭ | সূত্র - আইইডিসিআর | স্পন্সর - একতা হোস্ট
মুক্তমত কলাম

অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ নাকি প্রয়োজন সমাধান?

আমরা মানুষ। আমরা সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস করি। আমাদের রয়েছে সামাজিক বন্ধন ও পারস্পরিক সম্পর্ক। কিন্তু এর মধ্যে এমন কিছু ঘটনা ঘটে যাকে আমরা ন্যায় সম্মত কাজ অথবা অন্যায় বলে থাকি। আসলে ন্যায় আর অন্যায় কি?

সমাজবিদদের মতে যে সমস্ত কাজ সমাজের মানুষের জন্য কল্যাণকর ও সমাজে শান্তি-শৃংখলা থাকে এবং ঐ সমাজের রীতিনীতি ও আইন অনুযায়ী হয়, এতে কারও অধিকারও ক্ষুণ্ন হয় না এই সবই ন্যায়। আর এর বিপরীতের কাজগুলো অন্যায় কাজ। কিন্তু এমন কি কাজ আছে যেটা করলে সেটা ন্যায় হবে কিংবা অন্যায়? আসলে এটা নির্ধারণ করে কোনো রাষ্ট্রের ঐ সময়কার শাসনব্যবস্থা। উদাহরণস্বরূপ: বিচারের পর বিচারকের আদেশে মৃত্যুদণ্ড হলে সেটা ন্যায় আবার অন্যকেউ এমন কাজ করলে এটা অন্যায়। এইভাবেও ন্যায় অন্যায় নির্ধারিত হয়ে থাকে। আমি এরুপ কার্যের বিরোধী নই কেননা এটা প্রচলিত সমস্যা সমাধান। এর থেকে ভালো কোনো উপায় পাওয়া যায়নি।

Advertisements

একটি সময় ছিল এই পৃথিবীতে জ্ঞান অর্জনের প্রয়োজনীয় বিষয় ও বস্তু দুর্লভ ছিল, কিন্তু সেটা কালক্রমে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিবর্তনের ফলে মানুষের কাছে এসেছে। এর ফলে জ্ঞান চর্চা খুবই সহজ হয়ে গিয়েছে। এখনতো সাংবিধানিক আইন করে জ্ঞান চর্চাকে বাধ্যতামূলক করা হয়। ফলে আজ সমাজে কোথায় কোনো অন্যায় হলে তা আমরা বুঝতে পারি এবং প্রতিবাদ করতে পারি। প্রতিকার, প্রতিরোধ অথবা সমাধান করতে পারি। কোনটি অন্যায় আর কোনটি ন্যায় আমরা বুঝতে পারি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদী কন্ঠস্বর জেগে ওঠে আর ন্যায়ের ক্ষেত্রে সহমর্মিতা। আমরা লেখার মাধ্যমে কিংবা রাস্তায় আন্দোলন, মিছিল মিটিং করে দেশের মানুষের কাছে তথা সরকারের কাছে প্রকাশ করি। আপনি আমি এভাবে চালালে নিপীড়িতদের কাছে জনপ্রিয়তা পাবে কিন্তু তাতে আমাদের সমাজ থেকে অন্যায় দূর হবে বলে আমি মনে করি না।

আমার প্রশ্ন তাতে কি সমাজে অন্যায়-অবিচার কমে গিয়েছিল? নাকি সে নতুন ভাবে রূপান্তরিত হয়ে নতুন কোথাও আবির্ভাব হয়? আচ্ছা যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আজ প্রতিবাদ করেছে সে কি কখনও অন্যায় করেনি? নাকি করবে না। কখনও কখনও সমাজে পরিচিতি পাবার জন্য অন্যের অন্যায় এবং দূর্বলতা কে পূজি করে কেউ কেউ প্রতিবাদ করে। হয়তোবা রাষ্ট্রীয় আইনের মাধ্যমে অন্যায়কারীকে সাজা প্রদান করেছে বা করে।

Advertisements

এমন প্রশ্নের সম্মুখীন হলে অনেকেই বলবে আমরা কি তাহলে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বন্ধ করে দিবো? আমার মতে অবস্থা ভেদে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। জ্ঞানী ব্যক্তির জ্ঞানই সমাজে আলোকিত করে। আমি মনে করি প্রতিবাদ করে নয় বরং সমাধান করা উচিত যাতে কখনও অন্যায়ই না হয়। যে অন্যায় করে বা করতেছে কিংবা করবে তার বা তাদের মধ্যে আমাদের প্রদত্ত এমন জ্ঞান প্রদান করা উচিত যাতে তার বা তাদের মনে হয় “এই যে কাজ করে কি করবো? এতে সমাজের লাভ কি? অতীতে এরূপ কাজের ফল কি ছিলো? আমাদের কি ফল হবে? ভবিষ্যতে কি ফল আসবে? কিংবা সমাজের কি হবে? আমাদের কাছে কি বিকল্প ব্যবস্থা নাই যার জন্য সমাজের জন্য অন্যায় হবে না? এর পাশাপাশি আমাদের এটা দেখা উচিত যে অন্যায় করে প্রাপ্ত ফল আর ন্যায়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত ফলের তারতম্যটাকে।

কখনও দেখা যায় অন্যায় কে বিত্তবান হয়েও তার ভোগ করতে পারে না কিন্তু সামান্য উপার্জন করে সমাজের প্রিয় মানুষ হয়ে রয়েছে। সুতরাং এরূপ ভাবে চিন্তা করে উত্তর খুজে বের করলে অন্যায় অনেক কমে যেতো। অন্যায় প্রতিরোধ করে যাতে অন্যায় না হয়, অন্যায়ের প্রতিকার করে যাতে আইন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পায় এবং সমাধান করতে হবে যাতে কারও কোনো সমস্যা না হয়।

অন্যায় এক বড় ধরনের সামাজিক কিংবা রাষ্ট্রীয় সমস্যা, সমাজের নির্মাতারা চাইলে এরূপ কাজের স্থায়ী সমাধান করতে পারে।। ধর্মগ্রন্থে, সমাজ সংস্কারক এসব জায়গায সমাধান আছে বলে আমি মনে করি। এই ভাবে ন্যায়-অন্যায় ভেদাভেদ করে আদর্শ সমাজ গঠিত হলে আমরা সবাই শান্তিপূর্ণ ভাবে বাস করতে পারবো।

হয়তোবা আমার এই চিন্তা চেতনা ধারণ করে অনেক সমাজপতি তাদের অন্যায় কৃতকর্ম থেকে দূরে থাকবে না কিংবা প্রতিবাদি কন্ঠস্বর থেকে থাকবে না কিন্তু সমাধানে য‍দি সাফল্য আসে তবে রক্তাক্তের কোনো প্রয়োজন নেই। এতে করে  পরিপূর্ণ ভাবে শেষ হবে না কিন্তু মাত্রা অনেকাংশে কমে আসবে।

লেখক- জিসান তাসফিক

           শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ, 

           বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

বিষয়

*** 'নব যুগান্তর' সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আপনার ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করে এবং এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ ***

6
খেলাপি ঋণ এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে- আপনি কি মনে করেন এই অর্থ উদ্ধারে সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট?

ধন্যবাদ! আপনার মন্তব্যের জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close